Tuesday , December 12 2017
Breaking News
Home / জাতীয় / হেফাজত ও ইসলামী দলের সমালোচনার আলোচনা : দিকভ্রান্ত তারুণ্য -হাছিব আর রহমান
5th-may-shapla-shottor-66

হেফাজত ও ইসলামী দলের সমালোচনার আলোচনা : দিকভ্রান্ত তারুণ্য -হাছিব আর রহমান

1368009812একটা প্রবাদ আছে,‘কাকে কাকের গোস্ত খায় না’! জানি না সত্য কি না! একটা কাক মারা গেলে সম্মিলিতভাবে কাকেরা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাতে প্রবাদটা একেবারে অসত্য বলে মনে হয় নাএদেশে ইসলামী অঙ্গনে বর্তমানে কর্মীদের যে দুরবস্থা তা দেখে ঐ কাকের প্রবাদের কথাই মনে পড়ে!

নিজেরা নিজেদের গোস্ত খাওয়ার যে ভয়াবহ প্রয়াস তাতে ভবিষ্যত ভয়াল অন্ধকার। এক্ষেত্রে আসলে দোষী কেও না! আবার দোষী সবাই!

এর মাত্রাটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মুলত ফেসবুকেই। বাস্তবের অবস্থাটাও যে খুব একটা ভালো তা কিন্তু না তারপরও বাস্তব খামচাখামচিটা লোকেচক্ষুর আড়ালে থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তা সবাই দেখে আর হাসে।

২০১৩ সালের ১৩ ই মার্চ তারিখটাকে একটা কালো দিন হিসেবে দেখি আমিএই কামড়াকামড়ির মুল সূচনাটা জনসম্মুখে আসার ধারাটা সেদিনই হয়েছিলো মুফতী  সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইর একটা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে

মুফতী ওয়াক্কাস সাহেবের বলা ফৌজি আবুল ফজল শিরোনামের একটা বক্তব্যের পর।

সরাসরি সেদিন ওয়াক্কাস সাহেবকে প্রশ্ন তোলাটা সঠিক ছিল কিনা এটা একটা বড় প্রশ্ন! আবার রাজনীতিতে প্রধান নেতার বেইজ্জতি এবং তার ব্যাপারে ভুল কথাটা কর্মীরা মেনে নেবে কিনা এটাও বিবেচনার বিষয়!

এরপর আর থামেনি…। হেফাজতের লংমার্চ, ঢাকা অবরোধ এসব সময়ে শক্তিশালী হেফাজত সরাসরি আক্রমনই করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামের দুর্বল দলটাকে। হাটহাজারীর দরসগাহে মুফতী ফয়জুল্লাহ সাহেব দা.বা. বলেছিলেন,

….. তন্ত্র মন্ত্রের দিন শেষ, হেফাজতের বাংলাদেশ।

সেদিনই কিছুটা হলেও বুঝেছিলাম, উনারা ইসলামী আন্দোলনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নিয়েছেন! তখন ইসলামী আন্দোলন হেফাজতকে কিছুটা সমীহ করে একটি বৃহৎউদ্দেশ্যে কয়েকজনকে বিনা নোটিশে দল থেকে  অব্যাহতি প্রদান করেছিলো!

অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত সাহেব তার অন্যতম উদহারণ..! ইসলামী আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা জনাব নান্নু মুন্সীও বেশ কড়া জবাবদিহীতার শিকার হয়েছিলেন সেই আলোচিত বইয়ে তার নাম থাকার কারনে…। যদিও সেই বইয়ের প্রতিটা কথা পরে অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছিলো।

15578497_1262293980483084_1068546634618317555_nযাক, এরপর হেফাজত অনেকটা ইসলামী আন্দোলনকে অঘোষীতভাবে বাদ দিয়েই তখনকার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলো।পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে হেফাজতের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষীদের কারণে এবং আওয়ামী বাহিনীর নিষ্ঠুরতায় হেফাজত আন্দোলন বুমেরাং হবার পর ইসলামী আন্দোলন কিছুটা মর্মাহত হলেও ধিরে ধিরে হেফাজতের সাথে নিরব দুরত্বটা বেড়েছে বৈ কমেনি।

এর জন্য সর্বোতভাবে দায়ি মনে করি হেফাজতের মধ্যে থাকা কিছু স্বার্থপর এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কিছু হুজুগে আচরনকে। অবশ্য তখন হেফাজতের সাথে সরকারেরও বেশ আপনত্ব তৈরি হলো এবং হেফাজত সকল আন্দোলন সংগ্রাম বাদ দিয়ে মাদ্রাসাকেন্দ্রীক আগের যায়গাতেই ফিরে গেলো।

আল্লামা শফী সাহেব দা.বা. এক ধরনের মুচলেকা দিয়েই মুহতারাম আনাস মাদানী সাহেবকে জেল থেকে বাঁচিয়েছেন। যে মুচলেকাটা মুফতী ইজহার এবং হারুন ইজহার সাহেবের ব্যাপারে দেননি বলেই উনারা জেলের গারদে থাকতে হয়েছে লম্বা একটা সময়! (এই ব্যাপারটা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাইলে জেনে করার অনুরোধ রইলো, আবেগ দিয়ে কোন মন্তব্য এব্যাপারে না করার অনুরোধ থাকলো) এ রকম ভেতরগত অনেক ব্যাপার থাকলেও জনগনের মনে হেফাজত একটা ভালো যায়গাতেই ছিলো এবং থাকার কথাও ছিলো।

কিন্তু সমস্যাটা হয়ে দাড়ালো হেফাজতের মধ্যে থাকা কিছু  রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা! যাদের নিজেদের দলের কোন অবস্থা না থাকলেও অন্য দলের ক্রিয়াকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার ব্যাপারে মারাত্মক তৎপর ছিল।
তারা ছাড়া হেফাজতের আশেপাশে যাতে কেউ ঘেঁষতে না পারে সে ব্যাপারে সদা সজাগ ছিলো। আর ইসলামী আন্দোলন কিছুটা অহংকারের কবলে পড়ার কারণে  ফলশ্রুতিতে তৃণমুলের সকল কর্মীরাই একটা ভয়াবহ বিদ্ধেষ নিয়ে সামনে আগাতে লাগলো। তবে এই উভজগতের বিদ্ধেষের মধ্যেই ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম কিন্তু উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্ত সেই সাথে সাথে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রম ততটাই হ্রাস পেয়েছে।

২০১৩ এর আগে যেই জমিয়ত মাত্র দুই খণ্ড ছিলো ২০১৩ এর পর সেই জমিয়ত আরো কয়েক খণ্ড হয়েছে। মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব আর নুর হোসাইন কাসেমী সাহেবদের মাধ্যমেই কয়েকাংশ হয়েছে জমিয়ত!এরমধ্যে ফরিদ উদ্দিন মাসউদ সাহেবের জমিয়তও একটা আছে…

যেই ঐক্যজোট মাত্র দুইয়াংশ ছিলো তারা আরো কয়েকাংশ হয়েছে ২০১৩ এর পরে।

খেলাফত আন্দোলনের অনেকটা নাম নিশানাও মিটে গেছে!

খেলাফত মজলিসও রাজপথে কোন কর্মসূচি পালন করে না ২০১৩ সালের পরে!

এই সংগঠনগুলোর তৃণমুল পর্যায়ের কর্মীদের কোন কাজ না থাকাতেই মুলত ঝগড়া বিবাদে এত সময় দিতে পারেতাও ফেসবুকের মত একটা ফালতু যায়গায়! আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদের সমস্যা হলো,… বেশ হুজুগ, আবেগ, আর সংখ্যাধিক্য কিছু কার্যক্রম তাদেরকে ধৈর্যশক্তি রক্ষা করতে দেয় না!

কিছু হলেই প্রবল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের উপর! শেষ পর্যন্ত লাভের লাভের কিছুই হয় না একটা প্রতিপক্ষবেড়ে যাওয়া ছাড়া!

তবে একটা কথা ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে আছে,…. রাজনীতির মাঠে জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে; যে কারণে ফেসবুকে কিছু হুজুগ আর ভূয়া আইডির মিথ্যা প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে সংগঠনটার ব্যাপারে একটা নেগেটিভিটি প্রভাব ছড়ানো তাদের রাজনৈতিক কৌশল।

এক্ষেত্রে ফেসবুকে তারা কওমিয়ান সেজেই মুলত কাজটা করে। দু পক্ষের মধ্যে একটা দুরত্ব তৈরি করে তারা তাদের লাভটা অর্জন করে নেয়।

15665527_1262680813777734_5007500074514154915_n১৮ ডিসেম্বর ইসলামী আন্দোলনের লংমার্চ ছিলো মায়্নমার অভিমুখে..। শিবির, জমিয়ত, হেফাজতসহ অনেক সংগঠনেরই কিছু নেতাকর্মী এই লংমার্চের বিরোধিতা করেছে বেশ স্পষ্টভাবেই। যা তাদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছিলো না বলেই বিশ্বাস করি।

কেউ পোষ্টার ছিড়েছে, কেউ লংমার্চ বিরোধি বক্তব্য দিয়েছে; কেউ ফেইসবুকে নগ্নঅপপ্রচার চালিয়েছে।

কেউ প্রতিটা মাহফিল থেকে লংমার্চের পরিবর্তে ত্রাণের ঘোষণা চেয়েছে। সর্বপরি, সরকার তাদের চাহিদার দিকে তাঁকিয়ে লংমার্চ করতে দেয়নি। লংমার্চ হয়নি! পরাজিত সৈন্যের মতই সবাই যার যার বাড়িতে ফিরে গেছে!

কিন্তু কথিত ঐ ফেইসবুক মুজাহিদরা থেমে থাকে নি। ফেইসবুকে এরপর শুরু করেছে ব্যাঙ্গবিদ্রুপ!সব মিলিয়ে পরিবেশ সেই জগাখিচুড়ি মার্কা!

ব্যাক্তিগতভাবে এসব থার্ডক্লাশ ঝগড়ায় অংশ না নিলেও এবার একটু দেখলাম মজাটা আসলে কি!

এরা কেন এসব করে! লাভটা কি হয়! তাই দু‘টি পোষ্ট করেছিলাম ব্যাক্তি আক্রমন করে! দেখলাম তারাই নসিহত করতে আসে যারা এসব করে। তাছাড়া আর একটা উদ্দিশ্য ছিলো,

…. এভাবে দু একটা পোষ্ট দিলে যারা এসব পোষ্ট দেয় তারা আমার এ আইডিটা খেয়ালে রাখবে এবং এই লেখাটি তাদের দৃষ্টিতে যাবে!

ফাইনালি, এসব বাদ দিলাম। জানি, এসবে কোন লাভ নাই! যার কাজ সে ই করবে।

কারন ফেইসবুকের রাজ্যে সবাই রাজা! এখানের নয়; নসিহতে কিচ্ছু হয় না।

15589742_1288015761286385_412493955917357069_nকিন্তু আমাদের দেশের ইসলামী রাজনিতি এবং মুসলমানদের ক্ষমতায়ণের ভবিষ্যত আসলে কি? বিদেশ মুলুকের সব খবর রাখি! বিশ্লেষণ করি তাদের ব্যাপারগুলো…; কিন্তু নিজের দেশের খবর কি?  আমার দেশের কি হবে?এই যে কিশোর তরুণদের মাঝে অসহিঞ্চুতার চরম ধাপ! এর শেষফল কোথায়?

আমাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করা একদল গাদ্দারদের চিহ্ণিতই বা কিভাবে করবো? বড়রা কেন কোন পদক্ষেপ নেয় না!আর প্রতিটা জিনিস পর্দার আড়ালে কেন রাখার চেষ্টা করা হয়? যা হোক সরাসরি সামনাসামনি আলোচনা কেনকরা হয় না? অনেক কিছুই সামনাসামনি আলোচনার দ্বারা বেশ সুন্দর সমাধান আসে।

হেফাজত, ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত, জমিয়ত সবারই ফেইসবুক এ্যাকটিভিটি সেই শুরু কাল থেকে দেখে আসছি! ধিরে ধিরে ফেইসবুক যে একটা অসহিঞ্চুতা তৈরি করে দেয় এটা দিনের আলোর মত স্পষ্ট ব্যাপার। এক্ষেত্রে তারবিয়াতের বিকল্প নাই।

প্রত্যেক সংগঠনের উচিত গঠণমুলক তারবিয়াতের ব্যাবস্থা করা। কোন সংগঠনের কি পরিমান তারবিয়াত এবং কর্মীদেরগ্রুমিং করার ব্যাবস্থাপনা করা হয় সেটার ব্যাপারে একটা প্রবাদই উল্লেখ করতে পারি,…. সাহিবুল বাইতে আদরা বি মা ফিহি!

কিছুদিন আগে বর্তমান এক ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে দেখেছিলাম সেই সংগঠনেরই সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিকে ফেইসবুকে পাবলিকলি আক্রমনাত্মক কমেন্ট করছে! যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি তারবিয়াতবিহীন সে সংগঠনের কর্মীরা যে কি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না!

আবার আজকে ঢাকায় দেখলাম আমাদের এলাকার গত বছরও এক ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীল থাকা একজন একটা সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল! এটাই কিন্তু মুল দুর্বলতা।

timthumb….নিজেরা কতটুকু প্রস্তুত! কতটুকু তৈরি! সে যাঁচাইটুকু কখনও করি না.! বিপ্লব অত্ত সহজ না। একটা সমাজের শেকড় পরিবর্তন অনেক কঠিন ব্যাপার। অনেক! বই পড়ে পড়ে বিদেশ নিয়ে, অতিত নিয়ে বিশাল বিশ্লেষণ করাযায়, ফেইসবুকের মত মুক্তজায়গায় যা খুশি তা লিখা যায়; কিন্তু রাস্তায় নেমে জনগনের সাথে মিশে তাদের মতকরে ইসলামী বিপ্লবের ধারা এবং সুফল তাদেরকে বুঝিয়ে সমাজের শেকড় পরিবর্তণ করতে চাইলে অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে হয়। অনেক বড় বড় বাঁধা পার হয়ে; তবেইএ পর্যায় পর্যন্ত পৌছা যায়।

আমি একটা সংগঠনের সমর্থক! সেজন্য হয়ত আমার সংগঠনের ভুলত্র্রুটি আমার নজরে কম পরে কিন্তু রাজনৈতিক মাঠে কওমী ধারার সংগঠনগুলোর মধ্যে আমার সমর্থিত সংগঠনটার চেয়ে গঠনমুলক আর কোন সংগঠন পাই না। কওমি ধারার রাজনীতির মাঠ দরকার আছে এটা আমি অকপটে বিশ্বাস করি।

এই নীতিতে অভ্যাস্থরাই অন্তত জিহাদের ময়দানে দাড়াতে পারবে এক সময়; কারণ যে সামান্য টিয়ারসেলের সামনে দাড়াতে পারে না; সে কিভাবে মিসাইলের সামনে দাড়াবে? তাই মিঠা ওয়াজ করা ভাইদের ব্যাপারে কেবল সমবেদনা ছাড়া কিছু নেই।

তবে রাজনীতির জন্য যে গঠনমুলক অবস্থান দরকার এদেশের কওমি ধারার কোন সংগঠনই সে যায়গায় পৌঁছতে পারেনি আর পৌঁছুতে না পারার কারণ কিছুটা নিজেদের পারস্পরিক দন্ধও! একটা দল না করি ভালো কথা, কিন্তুতাই বলে সে দলের সাথে হাডুডু খেলতে হবে? এসব খেলায় হেরেছে কারা একটু শুনি..

এত বড় স্বপ্নের একটা সংগঠন ইসলামী ঐক্যজোট একটা সিটি কর্পোরেশনে ভোট পায় মাত্র নয়শ! তাও নয় লাখটাকা খরচা করে! আবার একটি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনের কিছু কর্মীরা আওয়ামী, বিএনপি, বামপন্থী সংগঠনগুলো থাকতে সে দলটাকে ইপ্রতিপক্ষ বানায়। কারন তারা পেয়েছে ১৩,০০০ ভোট!

এসব কেন হচ্ছে কিছুতেই বুঝতে পারছি না। আর এই তের হাজার ভোট দিয়েও বা কি হবে? যাক, কথা শুরু করছিলাম যেখান থেকে সেখানেই এসে দাড়াই!

5th-may-shapla-shottor-66…২০১৩ সালে ট্রাজেডির পর হেফাজত ব্যানর মাঠে না থাকলেও কিছু ব্যাক্তি হেফাজতকে ঠিকই মাঠে রেখেছে! যারা পথও ছাড়ে না আবার কর্মও সম্পাদন করে না!

২০১৩ সালের পর থেকে এমন কোন যায়গা পাওয়া যায়নি যেখানে কওমি অঙ্গনে রেষারেষিনা হয়েছে! হোক সেটা কওমী সনদ, হোক সেটা রোহিঙ্গা আন্দোলন, হোক সেটা শিক্ষানীতি নিয়ে আন্দোলন! প্রতিটা ব্যাপারেই একটা ডিভাইডেট ক্রিয়েট হবেই হবে! আর সে সুজোগে কর্মীরা তো আরো লাগামহীন হয়ে পরস্পর আক্রমনে কাঁপায়া দেবে ফেইসবুক জগত! কেমন যেন পৃথীবির সব সমাধান ফেসবুকই! অথচ ফেসবুক কোন বিবাদ ক্রিয়েট করা ছাড়া কিছুই করতে পারেনি কখনও।

তাই দির্ঘ বিশ্লেষণে একটা জায়গায় উপনীত হতে পেরেছি,

এদেশে ইসলামী রাজনীতির অগ্রগতি, অবণতি অনেকাংশেই হেফাজতে ইসলাম নামটার উপর নির্ভর করে। কারণ একটা রাজনৈতিক শক্তি অন্তত বুঝতে পেরেছে ‘হেফাজত আমাদের’! তাদের ব্যাবহার করে ধর্মব্যাবসার রাজনীতিটা আমরা করতে পারবো। তাই হেফাজত কোন অবস্থানে দাড়াবে, কোন ভুমিকায় যাবে সেটার উপর ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যত অনেকটাই নির্ভর করে। কারণ ‘হুজুগে বাঙালি’ কথাটা তো আর এমনি এমনি আসেনি! হেফাজতের প্রতি মানুষেরযে প্রেম সেটাকে রাজনীতির মোড়কে অলরেডি জড়িয়ে ফেলেছে একটা জনগোষ্টি!

তাই হেফাজতের একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করতে হবে-হয়ত তারা সরাসরি রাজনীতিতে নামবে; নয়ত রাজনীতি সংশ্লিষ্ট সব ধরনের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে তাদের অবস্থানে যাবে। যে কেন দলের জন্যই তাদের মঞ্চ উম্মুক্ত থাকতে হবে; নয়ত এই হেফাজতের

নামেই সকল অসহিঞ্চুতার বীজ বপন হবে। ইসলামী আন্দোলনের ১৮ ডিসেম্বর মায়ানমার অভিমুখে লংমার্চ এবং চট্টগ্রামের জাম্বুরী মাঠ পরবর্তি পলোগ্রাউন্ডে ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে চরমোনাই সংশ্লিষ্ট তিনদিনের মাহফিল এবং একই সময়ে হেফাজতের শানে রেসালত সম্মেলনের ব্যাপারে কেউ যদি ভালোভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তবে অবশ্যই আমার দাবির যথার্থতা খুঁজে পাবে।

তাছাড়া আসছে ইসলামী রাজনীতিতে আগ্রহী প্রজন্মকে ব্যাবহার করার জন্য একটা মাষ্টারপ্লানিং অলরেডি করেছে একদল লোক! যে লোকদের প্রধান প্রতিপক্ষ উঠতি রাজনৈতিক শক্তি ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’কেই ধরেছে তারা। আইএবি-র প্রতিটা জনপ্রিয়নেতার বিপরিতে তারা এক একজন লোক দাড় করাতে চাচ্ছে!

13327370_1695282927400366_836041270243885244_nযেমন কথার কথা উদহারণ হিসেবে, মুফতী ফয়জুল করীম সাহেবের বিপরিতে মুফতী মামুনুল হ্বক সাহেবকে দাড় করানো এমন আরকি! ব্যাপারটা যে এমনই তা বলছি না; তবে এমন একটা মিটিংয়ের কিছু তথ্য পেয়ে বেশ হেসেছিলাম আবার দুঃখও পেয়েছিলাম। হেসেছিলাম তাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা দেখে; আর দুঃখ পেয়েছিলা  একথা মনে পড়ায়!…. কোথায় আমরা পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হবার পরিকল্পণা করবো; তা না করে নিজেরা পরস্পর আরো বিবাদ কিভাবে তৈরি করতে পারি; সেটার পরিকল্পনা করছি এখনও..!

যদিও লাভের লাভ কিছুই হবে না কিন্তু একটা ছোটখাটো প্রজন্ম তো তৈরি হবে যারা প্রচণ্ডরকমের বিদ্ধেষ নিয়েসময় পার করবে। এর দায়ভার কারা নেবে সেটা একটা বিবেচ্য বিষয়!

ভোটের রাজনীতি বাংলাদেশের জন্য একমাত্র হাস্যকর এবং দুর্নীতিগ্রস্থ একটা পন্থা। যে পন্থায় আর যারাই হোক ইসলামী কোন দলের ক্ষমতায়ন করাটা রিতিমত ঘুমহীন দ্বিবাস্বপ্ন! তাই ১৩/১৫ হাজার বা আরো বেশি ভোটও কোন মানে রাখে না আসলে তাছাড়া যে স্বপ্ন সফল হলেও টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষিণ!

তাই বিপ্লব ছাড়া কোন পথ নাই! জিহাদের মাধ্যমে সমাজ প্রতিষ্ঠার ব্যপারটা আপাতত আলোচনা করছি না; কারণ যে প্রজন্ম রহম করার আয়াতের উপরই আমল করে না সে প্রজন্মকে জিহাদের জন্য ডাক দেয়াটা চরম হাস্যকর।

তাই বিপ্লবের পথে হাটতে হলে অবশ্যই অনেক বড় এবং যুগোপযোগী পরিকল্পণা লাগবে। যে পরিকল্পণাটাই এখন হাতে নেয়া দরকার জনসম্পৃক্ত যে কোন ইসলামী সংগঠনের।

এ ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের বিকল্প চোখে পড়ে না; তবে একক ইসলামী আন্দোলন এদেশে পিওর ইসলামি হুকুমতের ব্যাপারে কিছু করতে পারবে না। তার সবচেয়ে বড় প্রমান জামায়াতে ইসলাম কিছু করতে পারেনি; কেবল বিচ্ছিন্ন একটা প্রজন্ম তৈরি করা ছাড়া। ঐ তিনটা চারটা মন্ত্রিত্ব আর দশ বারোজন এমপি দিয়ে যে কিছু হয় না; সেটা সেই মন্ত্রীদেরই ফাঁসির মাধ্যমে বুঝা গেছে। যদিও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যাপারটা জামায়াতের জন্য একটা আলাদা কালো তিলক!

তবে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে জনমনে সচেতন মহলের জন্য কিছু প্রশ্ন রয়েছে; কিছু প্রশ্নের যৌক্তিকতাও আছে। তাই যার দু একটার ব্যাপারে আলোচনা করা জরুরি..।

১/ মিডিয়া কভারেজ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা একটা আক্ষেপ করে থাকে অথচ তারা চাইলে কিন্তু গঠনমুলকভাবে ফেইসবুকটাকেই বিশাল মিডিয়া হিসেবে ব্যাবহার করতে পারে।

অথচ ফেইসবুকে চলে অনেকটা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার কাজ! যে কারণে প্রচারে বিঘ্ন ঘটে অসম্ভব সুন্দর কিছু প্রোগ্রামের।

এই কথাটার সাথে কিন্তু আমি নিজেও একমত! কারণ বিডি নিউজের পাঠকের চেয়ে ফেইসবুক আইডি কিন্তু বেশি! তাই খোঁচাখুচি না করে তারা যদি কেবল সংগঠন প্রচারে ভুমিকা রাখে তবে অবশ্যই তা ভালো একটাফলাফল বয়ে আনবে।

যেমন উদহারণস্বরুপ প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই দেওবন্দীরা জামায়াতের বিরোধিতা করে এসেছে কিন্তু তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে কোন ক্ষতি করা যায়নি। কারণ তারা সমালোচনা উপেক্ষা করে কাজ করেছে। যার ফলে আজকে তারা সেই দেওবন্দীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখেই শিকারের পথ উম্মুক্ত করছে ধিরে ধিরে।

তাই সমালোচনার জবাব ততটুকুই দেয়া; যতটুকু দিলে সমালোচকের ঘৃণার পরিধি বৃদ্ধি না পায়।

২/ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে উগ্রতা রয়েছে। কাউকেই সম্মান দেয় না তারা।

…. যে কোন আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য যদিও কর্মীদেরকে নিবেদিতপ্রান এবং সংগঠনের জন্য উৎসর্গীত হতে হয়; তারপরও সে উৎসর্গের মাত্রাটা দলের বেলায় কন্ট্রোলে রাখতে হয়। নয়ত তা দলের জন্য ক্ষতি বয়ে আনে। তাই অনলাইনে ইসলামী আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্থ হবার এটা একটা বড় কারণ। এছাড়াও অনলাইনকেন্দ্রীক এই সংগঠনের অনেক কর্মীদের বেশ অদক্ষতা রয়েছে যেমন লেখার ‘স্যাটায়ার ভার্সণ’ বুঝে না! যে লিখে তার গোষ্টি উদ্ধার করে-এরকম আরো কিছু ব্যাপার আছে যা ঠিক করে নিলে অনলাইনে এ সংগঠনের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থান করোরই থাকবে না।

৩/ ব্যাক্তিকেন্দ্রীক মানসিকতা পরিহার করা।

….ইসলামী বিপ্লব কেবল হজরত মুহাম্মদ সা.কে সামনে রেখেই করাই যৌক্তিক।

আধ্যাতিকতা এবং পীর মুরিদির ক্ষেত্রে ব্যাক্তির একটা অবস্থান থাকতে পারে; কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের জন্য ব্যাক্তি নয় সংগঠনের পরিচয় জানা থাকতে হয়! ‘পীর সাহেব চরমোনাই’ বললে যতটুকু চেনে ‘ইসলামী আন্দোলনের আমীর’ বললে ততটুকু চেনে না কেন? এর জবাব বের করা দরকার! এসব ব্যাপারে টপ টু বটম দলকে ঢেলে সাজাতে এবং অনলাইন কর্মীদের সজাগ করে তোলা উচিত। কারণ অনলাইন থেকে দলের বিশাল ক্ষতি হচ্ছে ধিরে ধিরে। অনলাইনে যেমন মাথামোটা ‘আমিন’ পাবলিকরা আছেন; তেমনি রাতে ঘুমানোর আগে প্রতিদিন দশ এগারোটাবাংলা ইংলিশ পত্রিকা পড়ে ঘুমানোর লোকেরাও আছে। তাই তাদেরকে বিবেচনায় রেখেই কাজ করতে হবে।

কথা হচ্ছিলো অসহিঞ্চুতা নিয়ে….

…অসহিঞ্চুতার সবচেয়ে বড় কারণ যেটা পেয়েছি সেটা হলো তথ্য বিভ্রাটে ভোগা!

যা দেখলাম, প্রচার করলাম; প্রতিবাদ করলাম। কিন্তু সে ব্যাপারটার সত্যতা কতটুকু…!

তা নিয়ে যাঁচাই বাছাই কয়জনে করে -তা আমার জানা নাই।

লাইভ ফোবিয়া নামের মারাত্মক অসুস্থতাটা এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ি অথচ এই লাইক দিয়ে কয়তলা বিল্ডিং করা যায় আমার জানা নাই।

তাই লাইক ফোবিয়াটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দুর করতে পারলে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যাবে আশা করি। সবকিছুর পরও কিছু পাবলিক থাকবেই যারা কোন কথারই ধার ধারবে না। এসব পাবলিককে সবাই সম্মিলিতভাবে ফেইসবুকেই বয়কট করলে ধিরে ধিরে তারাও ঠিক হয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস। এক্ষেত্রে অন্যের যেকোন শালিন মতামতকে সম্মান করে সামনে আগালেফেসবুকে অন্তত অসহিঞ্চুতাটা  কমে আসবে। আর অফলাইনের কাজটা বড়রাই করবে জানি। তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকার আগ পর্যন্ত কিছুই করবে না এটাও জানি তাই এখন অপেক্ষা দেয়ালে পিঠ ঠেকা পর্যন্ত।

প্রায়ই ভাবি,

4bhk3f5c5b41561us9_620c350…এসব লাগামহীন অবস্থা আর কিছু লোকের অবস্থানে ব্যাক্তি পর্যায়ের কিছু লোক সাময়িক কিছু লাভবান হলেও বাস্তবে উম্মতের ফায়দা কি হয়-সেটা কেউ ভাবে না আজকাল অথচ বিপদ সর্বাগ্রে উম্মতের উপরই আসে।

পরিশেষে, এই লেখার প্রতিটা কথা নিজের উপর আগে এ্যাপ্লাই করেছি তারপর লিখেছি।

কোন মতামত ব্যাক্ত করতে চাইলে আপনাকে কোন দলের উর্ধে উঠতে হবে না বরং সব দলকে উপরে রেখেমন্তব্য করলে দেখবেন কত সুন্দর মতামত বের হয়! একটা কথা কিন্তু বাস্তব, … হোক হেফাজত, হোক জমিয়ত, হোক ঐক্যজোট হোক ইসলামী আন্দোলন, হোক মাসউদ, হোক আহমদ শফী, হোক রেজাউল করীম, হোক মুফতী ওয়াক্কাস, হোক নুর হোসাইন কাসেমী, হোক ফয়জুলকরীম সবারই কিন্তু একটাই মিশন…।

…দেওবন্দী ধারায় ইসলামকে বিজয়ী রুপে দেখা। তাই দেওবন্দীয়াতের এই ফিকরে উম্মতকে জিন্দা রাখতে সবাই সম্মিলিত পথে যতদিন না হাটবে ততদিন এই লজ্জাজনক ডিভাইডেট চলতেই থাকবে। চলতেই থাকবে! সফলতা কেহই পাবে না! যেভাবে পায়নি অবরোধে, লংমার্চে, শিক্ষানীতিবিরোধী আন্দোলনে।

তাই আসুন নিজেদের অবস্থান নিজেদের বিবেচনায় ঠিক করে নেই বড়দের দেখানো পথে…

Check Also

DSC03465

মূর্তি স্থাপন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র -মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে আদিকাল থেকে চলে আসা বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করা হচ্ছে। এদেশের মানুষ …

5 comments

  1. খুব সুন্দর লেখা এখানে শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু আছে।

  2. Allah tumi sokol hok alem der 1kore daw….amin

  3. আমার জীবন কে সুন্দর করার জন্য এই একটা পোস্ট ই যতেস্ট!

  4. sabbir ahammed rubel

    খুবই যুক্তিসংগত পোষ্ট

  5. Jader jonno ae gothonmulok toththopurno lekha Tara er theke shikhkha nebe Mohan ALLAH er kache ei doa korchi.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *