Friday , June 22 2018
Breaking News
Home / উপসম্পাদকীয় / শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান: কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম
177052_149

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান: কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

177052_149প্রতি সকালের কুয়াশা আর ঠাণ্ডা হাওয়া জানান দিচ্ছে শীত এসেছে সারা গ্রামজুড়ে। পাখিরা গাছের ডালে জবুথবু হয়ে আছে। জমে আছে ঘাসের ওপর শিশির বিন্দু। শীত ও শীতে অসহায় মানুষের কষ্ট নিয়ে একটি লেখা লিখব বলে মনস্থির করি।

প্রতি বছর শীতকাল আমাদের মাঝে আসে, আবার চলেও যায়। কিন্তু কষ্ট হয় অসহায় ও দুঃখী মানুষের বর্ষা ও শীতকালে। এ দুটো কালেই অসহায় মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে ভোগে। যৎসামান্য সাহায্য তারা পায়, তা দিয়ে কোনোভাবেই তাদের কুলোয় না। কষ্ট সহ্য করেই দিন পার করতে হয়।
শীতে উত্তরাঞ্চল, দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন ও গ্রামাঞ্চলে সাতসকালে দেখা মিলবে অসংখ্য দুঃখী মানুষের। খোলা আকাশের নিচে গায়ে ছালা আর শরীরের কাপড় জড়িয়ে কোনোমতে শুয়ে আছে। ক্ষণে ক্ষণে ঠাণ্ডায় কুঁকড়ে উঠছে। পাশে কুকুর, বিড়ালের আনাগোনা। আবার আমরা দারিদ্র্যমুক্ত স্বদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাই! মানুষের অসহায়ত্বের এমন দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না। ‘শীতে একটি অসহায় মানুষও কষ্ট পাবে না’Ñ এমন সঙ্কল্প আমাদের নিতে হবে।
শীতে অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতে দেখা যায় অনেককে, যা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। শুধু মিডিয়া কাভারেজ কিংবা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে যদি এ সাহায্য হয় তাহলে তা কখনো সুফল বয়ে আনবে না। সাহায্য, সহযোগিতা হতে হবে নিঃস্বার্থ ও সৎ উদ্দেশ্যপূর্ণ।
শীতার্ত মানুষের সাহায্যার্থে প্রথমে এগিয়ে আসার কথা রাষ্ট্রের। বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠনকেও শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান সব মানুষকেও।
চার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শীতার্ত দরিদ্র মানুষকে খুঁজে বের করতে হবে। ওরা তো অসহায়, ওদের কাছে নেই কোনো দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো উপাদান! মিডিয়া চাইলে তাদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিতে পারে। চাইলে গণমাধ্যম কর্মীরা শীতার্তদের নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিত্তশালীদের।
অবশ্য নিজ উদ্যোগে এবং নির্মোহ মনোভাব নিয়ে অনেকে শীতার্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসেন। যা আমরা বিভিন্নভাবে দেখতে পাই। চেষ্টা করে সরকার ও বেসরকারি অনেক সংস্থাও। কিন্তু যতটুকু এগিয়ে আসার কথা ততটুকু হচ্ছে না। সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে বাদ পড়ে যাবে অনেক দরিদ্র শীতার্ত মানুষ। এ জন্য দেশব্যাপী শীতার্ত মানুষের একটি তালিকা করা যেতে পারে। এ কাজে প্রয়োজনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনকেও কাজে লাগানো যায়। তালিকা ধরে প্রত্যেক শীতার্ত মানুষের কাছে শীতবস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য পাঠানোর কাজটি সরকার করতে পারে। তবে শীতার্ত মানুষের এসব বস্ত্র ও অর্থসহ সব সাহায্য যেন দুর্নীতিমুক্তভাবে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিতরণ ব্যবস্থা যেন ত্রুটিমুক্ত হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
অন্যান্য সংস্থাও তাদের মতো করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ সমন্বিত একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে পারলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে শীতের কষ্ট থেকে রক্ষা করা যাবে। পাশাপাশি সবাইকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আসুন সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই শীতে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সবাই হাত বাড়িয়ে দিই।

Check Also

ZJ

শহীদ জুনাইদ জমশেদ রহ -এর জীবন ও কর্ম : সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

সংগীতজ্ঞ জুনায়েদ জামশেদ ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম গ্রহণ করেন। গতকাল প্রিয়তমা জীবনসঙ্গিনী সহ এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *