Monday , December 11 2017
Breaking News
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / রক্তসাগর পেরিয়ে হলেও আরাকানের নিপীড়িত মুসলমানদের পাশে দাঁড়াবো : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর
_dsc0277-1

রক্তসাগর পেরিয়ে হলেও আরাকানের নিপীড়িত মুসলমানদের পাশে দাঁড়াবো : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর

১৮ ডিসেম্বরের লংমার্চ সর্বাত্মকভাবে সফল করুন : নগর সভাপতি

_dsc0277-1ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আরাকানকে মুসলিমশূন্য করার লক্ষ্য নিয়ে মিয়ানমারের সেনা-পুলিশ-বিজিপি ও উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদেরকে গণহত্যা করছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে খুন, নারীদের ধর্ষন, সহায়-সম্পদ লুণ্ঠন, শিশু ও বৃদ্ধদের নিপীড়ন, বাড়ি-ঘর জ্বালাও-পোড়াও, ভিটে-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, মসজিদ-মাদরাসা ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করে মিয়ানমার চরমভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করেছে। শতাব্দীকাল থেকে অব্যাহত মানবতার বিরুদ্ধে এসব অপরাধে বাংলার মানুষ আর বসে থাকবে না। প্রয়োজনে নাফ নদী সাতরিয়ে পাড়ি দেব এবং মিয়ানমার গিয়ে নিপীড়িত মুসলমানদের প্রতি ফোটা রক্তের বদল নেব ইনশাআল্লাহ।

রোহিঙ্গাদের গণহত্যা বন্ধ এবং মিয়ানমারে তাদের নাগরিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আজ (শুক্রবার) বাদ জুমা, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ উত্তর গেইট চত্বরে বিশাল সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর নেতৃবৃন্দ উপর্যুক্ত কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জননেতা আলহাজ মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে জননেতা জান্নাতুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবাদ ইসলাম সমর্থন করে না। সন্ত্রাসী ধরার নামে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের শত শত ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, ত্রিশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে, একুশ হাজারের মতো নারী ও শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে সম্পূর্ণভাবে উচ্চেদ করাল লক্ষ্যে মিয়ানমার বৌদ্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এ অভিযান পরিচালনা করছে।

কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ জান্নাতুল ইসলাম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযানকে ‘স্পষ্ট গণহত্যা’ উল্লেখ করে বলেন, ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত রেজ্যুলেশন ২৬০ (৩)-এর অনুযায়ী একটি জাতি বা ধর্মীয় সম্প্রদায় বা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে এমন কর্মকাগুকে গণহত্যা বলা হয়েছে। সুতরাং এটাকে জাতিনিধন ইত্যাদি শব্দাবলির মারপ্যাচে বার্মিজ জান্তাদের মানবতাবিরোধী অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‘রোহিঙ্গাদের বাঙালি’ বলে মিয়ানমারের দাবির প্রেক্ষাপটে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, রোহিঙ্গারা বাঙালি হলে আরাকান বাংলাদেশের অংশ, বার্মিজরা সেখানে দখলদার। আরাকানকে হানাদার বার্মিজদের কবল থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওআইসির সম্মেলন আহ্বান করুন, আসিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরাম থেকে মিয়ানমারকে বহিষ্কার, আরাকানে শান্তিরক্ষী প্রেরণে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করুন।

_dsc0268নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, কর্ম, ভূমিস্বত্ব, ভোটাধিকার ও নাগরিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া, বাজেয়াপ্ত ওয়াকফ সম্পত্তি ফেরত, মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া মুসলমানদের কবরস্থান, গুঁড়িয়ে দেয়া মসজিদ-মাদরাসাসহ সকল ধর্মীয় স্থাপনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুননির্মাণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবন যাপনরত সকল রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানান এবং উপর্যুক্ত দাবিসমূহ আদায়ে বিশ্বমুসলিমকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমার অভিমুখে সর্বাত্মকভাবে লংমার্চ সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

সবাবেশে চট্টগ্রাম নাগরিক উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জননেতা আলহাজ মুহাম্মদ আবুল কাশেম মাতব্বর, আলহাজ মুহাম্মদ আল-ইকবাল, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অধ্যাপক মুহাম্মদ মুছা কলিমুল্লাহ, মাওলানা সুলতানুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডা. মুহাম্মদ রেজাউল করীম, এইচএম মুসলেহ উদ্দীন, মু. সগির আহমদ চৌধুরী, মাওলানা তরীকুল ইসলাম সরকার, মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম শাহীন, ওলামা-মাশায়েখ নেতা মাওলানা শেখ মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, শ্রমিক নেতা আলহাজ মুহাম্মদ ওয়ায়েজ হোসাইন ভুঁইয়া, ডা. মুহাম্মদ ফরিদ খান, অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল আলম, আলহাজ মুহাম্মদ আলী আকবর, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা মাওলানা কারী দিদারুল মওলা, ছাত্রনেতা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

Check Also

coal_1558

কয়লা নিয়ে চলছে জেদাজেদির রাজনীতি

একুশবিডি24ডটকম। বাগেরহাট জেলার রামপালে বাংলাদেশ সরকার একটা কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তুতিমূলক কাজও এগিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *