Monday , December 11 2017
Breaking News
Home / জাতীয় / মূর্তি হলো গজব ও ধ্বংসের প্রতীক : সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ করুন – সমাবেশে পীর সাহেব চরমোনাই
IMG_1477

মূর্তি হলো গজব ও ধ্বংসের প্রতীক : সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণ করুন – সমাবেশে পীর সাহেব চরমোনাই

IMG_1477একুশবিডি24ডটকম : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই সুপ্রিমকোর্টের সামনে লেডি জাষ্টিজ-এর মূর্তি স্থাপন ইসলামের উপর চরম আঘাত। সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের সামনে সর্বোচ্চ আইনপ্রণেতা হিসেবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর নাম লিপিবদ্ধ আছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সুপ্রিমকোর্টের সামনেও আইনপ্রণেতা হিসেবে কোন মূর্তি নেই। তাহলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সুপ্রিমকোর্টের সামনেও গ্রীক দেবী লেডি জাস্টিস-এর মুর্তি থাকতে পারে না। তিনি বলেন, ইসলাম ও মুসলিম সাংস্কৃতিক চেতনা ধ্বংসের জন্যই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। পীর সাহেব বলেন, লেডি জাষ্টিজ-এর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের সাংস্কৃতিরও কোন অনুষঙ্গেরই অংশ নয়। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে দেবীমূর্তি স্থাপন ইসলামী সভ্যতা সংস্কৃতি ও মুসলমানদের  ঈমান আকিদা পরিপন্থী। মূর্তি হলো গজব ও ধ্বংসের প্রতীক। ইতিহাস প্রমাণ করে ইতিপূর্বে যারা মূর্তির পেছনে পড়েছে এবং মূর্তির ভালবাসায় লিপ্ত হয়েছে তারা সকলেই নির্মমভাবে ধ্বংস হয়েছে। এদেশকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করার জন্যে একটি মহল ভাস্কর্যের নামে ঢাকাসহ সারাদেশে মূর্তি স্থাপন করছে। তিনি বলেন, ইসলাম এসেছে মূর্তি ধ্বংসের জন্য। মূর্তি স্থাপন, ঈমান বিরোধী শিরকী কাজ মেনে নিবে না এবং জীবনবাজী রেখে তারা ইসলাম বিরোধী নীল নকশা বাস্তবায়ন প্রতিহত করবে।

আজ শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিস দেবীর মূর্তি অপসারণ এবং শিক্ষানীতি নিয়ে নাস্তিক্যবাদী চক্রান্তের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সমাবেশে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণের দাবিতে ১২ ফেব্র“য়ারি জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা জজের নিকট এবং ১৫ ফেব্র“য়ারি প্রধান বিচারপতির নিকট স্মরাকলিপি প্রদানের কর্মসুচী ঘোষণা করেন। এরপরও দাবি না মানলে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নিকট স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসুচী দেয়া হবে। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ-এর সভাপতিত্বে এক বিক্ষোভ অনান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, দক্ষিণ সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, উত্তর সেক্রেটারী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, শ্রমিকনেতা ঈমান উদ্দিন, ছাত্রনেতা শরীফুল ইসলাম প্রমুখ।

পীর সাহেব চরমোনাই সিলেবাস সংশোধন করায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সিলেবাস পরিপূর্ণ সংশোধন এবং শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানদের চিন্তাচেতনা অনুযায়ী প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইন ২০০৬ অনুযায়ী ভারতীয় টিভি চ্যানেলসহ সকল অশ্লীল বিদেশী চ্যানেল নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য। জিটিভি ও জলসা ঘর-এর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে হাজার বছরের মুসলিম বাঙ্গালীত্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় ধর্মপ্রাণ জনতাকে এগিয়ে আসতে হবে। বাঙ্গালী সংস্কৃতির নামে ঋতু ও নববর্ষবরণ বা অন্য যে কোন উৎসব উদযাপনে বিধর্মীয় সংস্কৃতি সংখ্যাগরিষ্ট জনগণকে ধারণ, চর্চা ও অনুশীলন করাতে দেখা যায়। মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে, উলধ্বনি দিয়ে, শাখা বাজিয়ে, মঙ্গল কলস সাজিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু করা হয়। শোভাযাত্রায় ঢোলের ব্যবহার, হাতি ঘোড়া ও কচ্ছপের প্রতীক এবং বিভিন্ন ধরণের মুখোশ সম্বলিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাতে-মুখে, গালে আল্পনা এঁকে লাল পাড়ের শাড়ী, খোপায় হলুদ গাদাফুলের মালা, হাতে শাখা চুড়ি পরা তরুণীদের উচ্ছলতা, মুসলিম মহিলাদের সিঁিথতে সিঁদূর,গলায় পূতির ও গজোমাল, হাতে শাখা ধারণ করিয়ে মুসলিম বাঙ্গালীদের মধ্যে সমতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এভাবে মুসলিম সভ্যতা চিরতরে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, সংশোধিত সিলেবাস ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠী নতুনভাবে চক্রান্ত শুরু করেছে। নাস্তিক্যবাদীদের যে কোন চক্রান্ত কঠোরহস্তে প্রতিহত করতে হবে। ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তা চেতনা ভুলুন্ঠিত করে গুটিকয়েক বাম. নাস্তিক-মুরতাদদের মনোবাসনা অনুযায়ী শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসুচি তাদের ইচ্ছানুযায়ী  তৈরির ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি বলেন, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের ছেলে মেয়েরা তাদের স্ব স্ব ধর্মীয় বিষয়াদী পড়বে, এতে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু মুসলমান ছেলে মেয়েদের জন্য হিন্দু ধর্মীয় বিষয়াদী যেভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তা  কোন মুসলমান মেনে নিতে পারে না। বিষয়টি অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উস্কানীমূলক। এই উস্কানীমূলক জঘন্য কাজ যারা করেছে ক্ষমতাসীনরা তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে শুধু সরকারকেই নয়, গোটা জাতিকে এর মাশুল দিতে হবে।

নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারকে সকলপ্রকার কুটনৈতিক তৎপরতাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিক্ষোভ সমাবেশশেষে একটি বিশাল মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Check Also

DSC03465

মূর্তি স্থাপন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র -মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে আদিকাল থেকে চলে আসা বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করা হচ্ছে। এদেশের মানুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *