Saturday , August 18 2018
Breaking News
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / ভাসমান মেঘ আর উচু-নিচু পাহাড়ের অপরুপ সৌন্দর্যের রাজ্য ’সাজেক ভ্যালী’
sajek

ভাসমান মেঘ আর উচু-নিচু পাহাড়ের অপরুপ সৌন্দর্যের রাজ্য ’সাজেক ভ্যালী’

sajekমেঘ-পাহাড়ের রাজ্যের নাম সাজেক ভ্যালী। অনেকে সাজেক ভ্যালীকে বাংলাদেশের ভূস্বর্গ বলে থাকেন। আকাশের নীল যেন এখানে এসে দিগন্ত ছুঁয়েছে। চারপাশে যতদূর দৃষ্টি যায়, ছোট-বড় সবুজ পাহাড়। উপর থেকে দৃষ্টি মেললে যেন সবুজ সমুদ্রের ঢেউ। একটি থেকে আরেকটি পাহাড়ের মাঝে যেন আটকে আছে সাদা মেঘের ভেলা।
দেশের বৃহত্তম ইউনিয়ন সাজেক। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এ ইউনিয়ন। তবে সাজেকে যেতে হয় খাগড়াছড়ি সদর থেকে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা এবং বিকেল ৩টায় বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করার পর সকল গাড়ি একযোগে সাজেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে আঁকা-বাঁকা পিচঢালা সড়ক। যাওয়ার পথে কখনো গাড়িগুলো আকাশের দিকে, কখনো পাহাড়ের গহীনের দিকে চলতে থাকে। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে পাহাড়ি শিশুরা হাত নেড়ে অতিথিদের অভিবাদন জানায়।
খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথের শেষে সাজেক। সমুদ্রপিষ্ট থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উচ্চতায় পাকা সড়কের দুপাশে পায়ে হেটে চলার জন্য রয়েছে পরিচ্ছন্ন ফুটপাত। পাহাড়িদের এবং পর্যটকদের জন্য রয়েছে রঙ্গিন সব কটেজ। পাহাড়ের উপত্যকায় সাজানো-গোছানো শহরের নাম সাজেক। যা পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। সাজেকে রুইলুই ও কংলাক নামে দুটি পাড়া রয়েছে। পর্যটকরা অবস্থান করেন রুইলুই পাড়ায়। সেনাবাহিনী পরিচালিত সাজেক ও রুনময় নামে দুটি রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া বেসরকারী উদ্যোগে বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে পাহাড়ের ঢালে। এসব

saje

রিসোর্টের বারান্দায় বসেই মেঘ-পাহাড়ের মিতালী দেখার সুযোগ মেলে।
কংলাক পাড়ায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এজন্য পায়ে হেটে পাহাড় বয়ে উঠতে হয়। সাজেকে এটাই সবচেয়ে উঁচুস্থান। কংলাক পাড়া থেকে এক নজরে সাজেক দেখার সুযোগ মেলে। তবে সাজেকে হ্যালিপ্যাডে পর্যটকরা গোধূলী বরণ করেন। এখানে বসেই দল বেধে গান ধরেন পর্যটকরা। সন্ধ্যা নামার পরে অনেকে ফানুস উঁড়িয়ে দেন। তবে অন্ধকারটা ঘনিভূত হবার সাথে সাথেই সবাই ফিরে আসেন রুইলুই পাড়ায়। এখানে সড়কের পাশে পাহাড়িরা কমলা, আনারস, কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করেন। পাহাড়ের এসব ফল খুব সুস্বাদু।
নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাজেক। এখানে ভোরের আলো ফোটার আগেই কটেজ ছেড়ে পর্যটকরা ছুটে যান হ্যালিপ্যাডে। সেখান থেকে দেখা মেলে সূর্য উদয়ের দৃশ্য। পূর্ব পাশে ভারতের মিজোরাম। সাজেক থেকে দেখলে মনে হয় মিজোরামের পাহাড়ে ভর দিয়ে আছে আকাশটা। ওই পাহাড়ের ওপাশ থেকে আকাশটা লাল করে ফুটে ওঠে ভোরের সূর্য। আলো ফোটার পর চোখে পড়বে মিজোরাম ও সাজেকের মাঝে পাহাড়ের চূড়ায় সাদা মেঘের দল ভাসছে। এ যেন মেঘপুরী।
সাজেক যেতে হয় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি হয়ে। খাগড়াছড়ি থেকে জিপ (স্থানীয় নাম চাঁদের গাড়ি) বা সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যেতে হবে সাজেক ভ্যালী। পর্যটকদের জন্য সেখানে থাকা ও খাওয়ার সকল ব্যবস্থা রয়েছে। সাজেকে বর্ষাকালে রোদ, বৃষ্টি ও মেঘের দেখা মেলে রংধনূর। শীতকালে কুয়াশার সাথেও দেখা মিলবে মেঘের। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানী সাজেক।

Check Also

Baytul-Mokarram

জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের শুরুর কথা

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল : একুশবিডি24ডটকম।  ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর। ঢাকার হাজারো মসজিদের মধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *