Monday , December 11 2017
Breaking News
Home / জাতীয় / পীরের কোন ক্ষমতা নাই যে আপনাকে জান্নাতে নিবে : পীর সাহেব চরমোনাইর
fb_img_1483706395029

পীরের কোন ক্ষমতা নাই যে আপনাকে জান্নাতে নিবে : পীর সাহেব চরমোনাইর

fb_img_1483706395029একুশ বিডি : ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তৃতি, ইসলামের প্রসার, আত্মশুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারের মহান ব্রত নিয়ে জাতীয় আধ্যাত্মিক সংগঠন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রামের পলোগ্রান্ড ময়দানে তিনদিনব্যাপী (৫, ৬ ও ৭ জানুয়ারি ২০১৭) ঐতিহাসিক বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের প্রথম দিনেই লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নেমেছে। চরমোনাইয়ের পীর সাহেব হুযুর ও দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখের বয়ান, দীনের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ, ইবাদত-বন্দেগি ও জিকিরের মাধ্যমে মাহফিলের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে।

মাহফিলের প্রথম দিনের শেষ বয়ানে মারিফত সংক্রান্ত আলোচনায় মাহফিলের মধ্যমণি হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ‘মারিফত অর্থ চেনা ও পরিচয়। কোনো জিনিসের পরিচয় বুঝে আসলেই তার গুরুত্ব বুঝে আসে। শিশু আগুন বা পানি কি তা বুঝে না, কাজেই আগুন বা পানির ভয়-ভীতি তার মধ্যে নেই। অনুরূপভাবে আল্লাহকে চেনা-জানা এবং পরিচয় জ্ঞাত হওয়ার নামই হচ্ছে মারিফত। এ মারিফতের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর হুকুম-আহকাম, বিধিবিধান এবং আদেশ-নিষেধ পালন করা।’

আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দিনের বাদ ফজরের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘মারিফত ও শরীয়ত এক ও অভিন্ন; আলাদা কিছু নয়। রুহ ছাড়া যেমন শুধু দেহ মানুষ নয় এবং দেহ ছাড়া কেবল রুহ মানুষ হতে পারে না, তেমনি মারিফত ও শরীয়ত একটা ছাড়া অন্যটি দিয়ে কাল কিয়ামতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘নামায পড়া আল্লাহর বিধান, এটি শরীয়তের বিধান। কিন্তু যদি এই নামায লোকদেখানোর জন্য কেউ পড়ে সেই নামায আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। নামায আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য অন্তরের গোপন অভিপ্রায়কে শুদ্ধ করতে হবে। আর এটারই মান হচ্ছে মারিফত।’ পবিত্র কুরআন-সুন্নাহের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ এবং শরীয়তের বিধিবিধান ও আদেশ-নিষেধের পাবন্দি ছাড়া মারিফতচর্চাকে ষোলা আনা ভ-ামি আখ্যা দিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘কুরআন-সুন্নাহর নীতি ও শরীয়তের বিধি-বিধানকে স্পষ্ট লঙ্ঘন করে যারা মারিফত ও সুফিবাদের নামে গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ নর্দন-কুর্দন এবং বিভিন্ন কুসংস্কর ও শিরক-বিদআতে লিপ্ত রয়েছে তারা পীর-অলি বহু দূরে, তারা আস্ত ভ-ের দল। জুমাপূর্ব বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, কারো বদ আমলকে নেক আমলে পরিণত করার ক্ষমতা পীরের নেই। পীর অর্থ গুরু, দীনের শিক্ষক। মানুষকে ভালো-মন্দ বিষয়ে সর্তক করাই তার কাজ। বদ আমলের শাস্তি জাহান্নাম, জান্নাতে নিতে কোনো পীরেরও ক্ষমতা নেই।

মাহফিলে বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখের মধ্যে আরও বয়ান পেশ করেন শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিচার্জ সেন্টার ঢাকার প্রধান পরিচালক হযরতুল্লামা মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার প্রধান মুফতী ও হযরত হাফিজ্জী হুজুর (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলীফা হযরতুল আল্লামা মুফতী হাফেজ আহমদুল্লাহ সাহেব, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নাজিরহাট জামিয়া নাসিরুল উলুমের প্রিন্সিপাল হযরতুল্লামা মুহাম্মদ ইদরীস, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব হযরতুল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, আরবি ম্যাগাজিন বালাগ আশ-শরকের সম্পাদক ও জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা হাফেজ ওবাইদুল্লাহ হামজা, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী আল্লামা ড. আ ফ ম খালেদ হোসাইন, বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন হযরতুল আল্লামা মুফতী নুর হোসাইন নুরানী, খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী (কুয়াকাটা হুজুর), চরমোনাইয়ের খলীফা হযরত মাওলানা নুরুল করীম বেলালী, মাওলানা মুফতী দেলওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা শেখ আমজাদ হোসাইন, হযরত মাওলানা হাবিবুর রহমান আতিকী, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জিহাদী, মুফতী ইবরাহীম আনোয়ারী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম।

আজ (শুক্রবার) সকাল বাদ ফজর পীর সাহেব চরমোনাইয়ের তৃতীয় বয়ানশেষে, ইজতিমায়ী জিকির, আনুষ্ঠানিকভাবে ইশরাক নামায আদায়, নামাযের প্রশিক্ষণ ও সমবেত মুসল্লিদেরকে বিভিন্ন ইমামদের অধীনে বিভিক্ত করে নামাযের দশটি সূরার বিশুদ্ধ অনুশীলন এবং মুসলমানের জীবনের প্রয়োজনীয় দোআ ও মাসআলার শিক্ষা দেওয়ার কাজ পরিচালিত হয়। এর সকাল ১০ মাহফিলস্থলে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন জুমার নামাযের পর বেলা ২.৩ ঘটিকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে বিশাল ছাত্রগণ জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। উভয় অনুষ্ঠানে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই। শ্রমিক নেতা আলহাজ ওয়ায়েজ হুসাইন ভূঁইয়া ও ছাত্র নেতা জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশসমূহে প্রধান বক্তা ছিলেন যথাক্রমে কেন্দ্রী সভাপতি অধ্যাপক আশরফ আলী আকন ও শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

কর্মসূচি:
১. ওলামা-মাশায়েখ ও সুধী সমাবেশ: ৭ জানুয়ারি (শনিবার), সকাল ৯ ঘটিকায় মাহফিলস্থলে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ ও আইয়িম্মা পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে বিশাল ওলামা-মাশায়েখ ও সুধী সমাবেশ,
২. শিক্ষক সমাবেশ: ৭ জানুয়ারি (শনিবার), বেলা ৩ ঘটিকায় মাহফিলস্থলে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে বিশাল ছাত্র গণজমায়েত।

Check Also

DSC03465

মূর্তি স্থাপন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র -মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে আদিকাল থেকে চলে আসা বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করা হচ্ছে। এদেশের মানুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *