Monday , December 11 2017
Breaking News
Home / জাতীয় / দৈনিক ইনকিলাবের ধৃষ্টতা, ঘৃণার জবাব ঘৃণা দিয়ে নয়, আমরা ভালবাসা ও প্রত্যাশা দিয়ে দিতে চাই : হেফাজতে ইসলাম
hqdefault

দৈনিক ইনকিলাবের ধৃষ্টতা, ঘৃণার জবাব ঘৃণা দিয়ে নয়, আমরা ভালবাসা ও প্রত্যাশা দিয়ে দিতে চাই : হেফাজতে ইসলাম

inquilab_971মাওলানা মনির আহমাদ:

“বাজারের সবচেয়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপা পত্রিকাটি একবুক ভালবাসা নিয়ে সবচেযে বেশি মূল্য দিয়ে আমরা কিনে থাকি, নিশ্চয় এমন দায়িত্বহীন সংবাদ পড়ার জন্যে নয়…”।

প্রতিদিন সকালে নিজের টেবিলে রাখা পত্রিকাসমূহ থেকে সবার আগে খুঁজে বের করে পড়তে থাকা পত্রিকাটিতে যখন আমার প্রিয় ব্যক্তিত্বটির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীন সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হতে দেখি, তখন কতটা খারাপলাগা, ক্ষোভ ও হতাশার অনুভূতি ভেতরে জমে, প্রকাশ করার মতো নয়…।

আমি যে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার বিষয়ে কথা বলছি, হয়তো অনেকেই বুঝে গেছেন। গত ১০ ডিসেম্বরের যে মিটিংটা নিয়ে দেশের একজন সর্বজন মান্য বর্ষীয়ান শীর্ষ আলেমের জন্যে মানহানিকর সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হলো দৈনিক ইনকিলাবে, সেই মিটিংটাতে কওমি সনদের ইস্যুতে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. তার পূর্বেকার নীতি থেকে একচুল পরিমাণও ছাড় দিয়েছেন কিনা, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক কি একটুও খোঁজ নিয়ে জানার বা বুঝার চেষ্টা করেছেন??!!

বরং সেদিনের বৈঠকটি শতভাগ সফল বলা যায় এ জন্যে যে, এতদিন ধরে কওমি সনদের স্বীকৃতি বা মান নেওয়ার ইস্যুতে আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা.-এর নীতির বিপরীতে যেসকল বরেণ্য আলেম অবস্থান নিয়ে আসছিলেন, সেদিনের বৈঠকে তারাও নিঃসংকোচে আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা.-এর নীতিতাটাই মেনে নিয়েছেন জোরালো কণ্ঠে। এখানে তো শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র দক্ষ নেতৃত্ব ও বৈঠকের সফলতার বিষয়টি প্রসংশিত হওয়ারই কথা ছিল। অথচ, প্রিয় পত্রিকাটি এই সুন্দর অর্জনটাকে কতই না কদর্যভাবে উপস্থাপন করলো, কত জঘন্যভাবে ম্লান করার চেষ্টাটা করে গেল…!

সংবাদ প্রতিবেদনটি পড়ে আমার স্পষ্ট মনে হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ১০ ডিসেম্বর দারুল উলূম হাটহাজারীতে অনুষ্ঠিত কওমি বোর্ডসমূহের মিটিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তাবলী পড়ে দেখেননি। তাছাড়া প্রতিবেদনটি তৈরিতে অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি কোন মতামত যেমন হেফাজত আমীরের কাছ থেকে নেয়া হয়নি, তেমনি অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনেরও কোন সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিতর্কিত সংবাদ প্রতিবেদনটি পড়লে যে কোন সাধারণ পাঠকেরও বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক নিজস্ব ঘরাণার সে দিনের বৈঠকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির শোনা কথার উপর ভিত্তি করে, অথবা একান্তই ব্যক্তি বিদ্বেষের বশঃবতী হয়ে রিপোর্টটি করেছেন। কিন্তু এভাবে নিজের বিদ্বেষ বা কারো উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি শুধুই একজন শীর্ষ ও বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীনের সুনামহানির ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন যে কেবল তা নয়, বরং তিনি সমগ্র আলেম সমাজ ও ইসলামের মর্যাদাহানির মতো নিন্দনীয় কাজটিও করে গেছেন।

hqdefaultআরো কথা থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক তার কর্তব্যবোধের পরিচয় দিতে পারেননি, কিন্তু দৈনিক ইনকিলাবের মতো একটি পত্রিকা, যেটাকে এদেশের আলেম সমাজ ও ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা নিজেদের মুখপত্র হিসেবে ভালবাসা দিয়ে আঁকড়ে রেখেছে, সেই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক বা সম্পাদক মহোদয়েরও কি এমন কান্ডহীনতায় নজর পড়েনি??!!! পত্রিকায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যখন এমন কান্ডহীনতাকে প্রশ্রয় ও সমর্থন দেয়, তখন সত্যিই হতাশ হতে হয়!

দৈনিক ইনকিলাবের প্রিয় সম্পাদক মহোদয় বরাবরে এটুকু বিবেচনার অনুরোধ করবো- “বাজারের সবচেয়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপা পত্রিকাটি একবুক ভালবাসা নিয়ে সবচেযে বেশি মূল্য দিয়ে আমরা কিনে থাকি, নিশ্চয় এমন দায়িত্বহীন সংবাদ পড়ার জন্যে নয়…”।

ঘৃণার জবাব ঘৃণা দিয়ে নয়, আমরা ভালবাসা ও প্রত্যাশা দিয়ে দিতে চাই। আমরা আশা করবো, হেফাজত আমীরকে জড়িয়ে গত ১২ ডিসেম্বর প্রকাশিত জঘন্য অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচারে ভরপুর “আল্লামা আহমদ শফীকে তার কাছের লোকেরাই ডোবাচ্ছে” শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও দৈনিক ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে হেফাজত আমীরের কাছে ক্ষমা চাইবে এবং আগামীতে যে কোন সংবাদ প্রতিবেদন ছাপানোর বিষয়ে সাংবাদিকতার মান ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপ্রকাশের নীতিমালা শতভাগ বজায় রাখবে।

 

Check Also

DSC03465

মূর্তি স্থাপন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র -মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে আদিকাল থেকে চলে আসা বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করা হচ্ছে। এদেশের মানুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *