Saturday , August 18 2018
Breaking News
Home / উপসম্পাদকীয় / ওয়াজ মাহফিল নিছক বিনোদন নয় : মুসা আল হাফিজ
untitled38-750x440

ওয়াজ মাহফিল নিছক বিনোদন নয় : মুসা আল হাফিজ

untitled38-750x440ওয়াজকে যেভাবে শীতকালীন বিনোদনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে আমি ভীত,ভীত খুব। দশ বছর আগে যা অকল্পনীয় ছিলো, তা এখন প্রথায় পরিণত হয়েছে। যেনতেন প্রকারে ওয়াজ মাহফিলের সংখ্যা বাড়াকেই যদি দ্বীনী চেতনার প্রকাশ মনে করেন, তাহলে এ হবে আত্মঘাতি। নসীহত যখন তার আদি ও অকৃত্রিম বৈশিষ্ঠ হারায়, তখন সে আর দ্বীনী চেতনার প্রসার ঘটায় না।দ্বীনের জন্য সে বিপজ্জনক রুপও গ্রহণ করে।
বর্তমান ওয়াজে আমি মোঘল আমলের পতনের সময়ের প্রতিযোগিতা মূলক ওয়াজপ্রথার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি। তখন মানুষের কাছে বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলো । ঘোড় দৌড়, কবিগান, মল্লযুদ্ধ, সেমার মাহফিল, বিতর্কসভা এবং গলাবাজীর ওয়াজ। মানুষ এ গুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিলো।কার চেয়ে বেশি আয়োজন করে কে দেখাবে,এ নিয়ে হতো প্রতিযোগিতা। শিয়া ও বেদআতীরা এ সবের মধ্যে মজা পেতো বেশি।ওয়াজ মাহফিলগুলোতে এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীকে গালাগালি করতেন। বিবাদের কাদা ছুড়াছুঁড়ি করতেন। অধিক মাত্রায় গলাবাজীর মধ্যেই ছিলো বীরত্ব। এক এলাকা আরেক এলাকার সাথে বৃহৎ আয়োজনের প্রতিযোগিতা করতো!
অপর দিকে পর্তুগিজ আর মারাঠারা গিলে নিচ্ছিলো দেশ।
সেকালের সচেতন কিন্তু হাতে গোণা আলেমগণ দ্বীনের নামে চলমান এ সব প্রথার সমালোচনা করেন। আল্লামা আবদুল হক দেহলভীর সতর্কবাণীও কেউই কানে নিচ্ছিলো না। তিনি বলেছিলেন, দ্বীনকে বিনোদন বানিয়ো না।স্বেচ্ছাচার ও টাকা রোজগারের হাতিয়ার বানিয়ো না।ওয়াজ,ফতুয়া ও দ্বীনী নেতৃত্বকে তার আহালদের হাতে তুলে দাও। কিন্তু কে শোনে কার কথা?
ফল কী দাঁড়ালো? মারাঠাদের হাতে উজাড় হলো হাজারো জনপদ।শত শত দ্বীনী মারকাজ। দ্বীনকে দ্বীনের ভারসাম্যের জায়গায় রাখতে হবে। যখন তাকে প্রত্যেকেই লাওয়ারিস সম্পত্তি মনে করে যার তার মতো সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে থাকবে,তখন বুঝতে হবে জাতির কপালে দুর্গতি আছে।

Check Also

ZJ

শহীদ জুনাইদ জমশেদ রহ -এর জীবন ও কর্ম : সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

সংগীতজ্ঞ জুনায়েদ জামশেদ ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম গ্রহণ করেন। গতকাল প্রিয়তমা জীবনসঙ্গিনী সহ এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *