Thursday , January 18 2018
Breaking News
Home / জাতীয় / আলোচনা এখন তালিকা প্রকাশিত হবে কি না
search commiti

আলোচনা এখন তালিকা প্রকাশিত হবে কি না

একুশবিডি24ডটকম|search commiti অনুসন্ধান কমিটির নামের তালিকা থেকেই যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করতে হবে, এমন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এই কমিটির মাধ্যমে ১০টি নাম প্রস্তাব করার চেষ্টা চললেও এগুলোর বাইরে নতুন নাম আসবে কি না, সেই জল্পনাকল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান অনুসন্ধান কমিটির মধ্য থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) পাঁচজনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ করা ১০ জনের নামও তখন প্রকাশ করা হয়েছিল।
বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে এবারও দাবি উঠেছে, অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ করা নামগুলো প্রকাশ করার জন্য। তবে বর্তমান কমিটি এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিটির একাধিক সূত্র  জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ২০ জনের তালিকা তৈরির দিকেই তাদের মনোযোগ রয়েছে। এই তালিকা করার ক্ষেত্রে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জমা হওয়া নামগুলো প্রাধান্য দিচ্ছে।
কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে আর একটি বা দুটি বৈঠক করেই ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করবে অনুসন্ধান কমিটি। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার কমিশনার নিয়োগ দেবেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ইসি গঠনে শুধু অনুসন্ধান কমিটির তালিকার ওপরই নির্ভর করবেন, নাকি আর কোনো নাম অন্তর্ভুক্ত করবেন, সেই আলোচনা এখন সর্বত্র।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা এবং তাঁদের নিজস্ব বলয়ে এমন আলোচনা আছে যে ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতি শুধু অনুসন্ধান কমিটির ওপর নির্ভর না-ও করতে পারেন। অনুসন্ধান কমিটির কাছে মতামত দিয়ে বেরিয়ে ১৬ বিশিষ্ট নাগরিকের কেউ কেউ অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ করা নামগুলো থেকেই ইসি গঠনের পরামর্শ দেন। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ অনুসন্ধান কমিটির তৈরি করা নামের চূড়ান্ত তালিকা এবং তাদের সুপারিশ জনসমক্ষে প্রকাশের অনুরোধ জানান। তবে অনুসন্ধান কমিটি তালিকা প্রকাশের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। আবার প্রকাশ না করার কথাও বলেনি।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া যায়, অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ করা নামের বাইরে রাষ্ট্রপতি চাইলে তাঁর নিজস্ব পছন্দ প্রয়োগ করতে পারেন। তবে এটা বলা যায় যে আগামী নির্বাচন কমিশন দলকানা কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে অনুসন্ধান কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করা আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ  বলেন, ‘আমার মত হচ্ছে, অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ করা ১০ জনের মধ্য থেকেই সিইসিসহ অন্যদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। অনুসন্ধান কমিটির কাছেও আমি এই মত দিয়েছি।’
নির্বাচন কমিশন গঠনের নির্দেশনা রয়েছে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে। সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’ সংবিধানে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ নেই।
রাজনৈতিক বিভিন্ন সূত্র বলছে, অনুসন্ধান কমিটির দেওয়া ১০ জনের তালিকা থেকে পাঁচজন নিয়ে কমিশন গঠনের বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতি চাইলে ১০ জনের তালিকা থেকেও কমিশন গঠন করতে পারেন। আবার বাইরে থেকেও কাউকে নিতে পারেন। অনুসন্ধান কমিটির পক্ষ থেকে এমন মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই যে ১০ জনের মধ্য থেকেই কমিশন গঠন করা হোক। ওই সব সূত্রের মতে, রাষ্ট্রপতি নিজস্ব এখতিয়ারে অনুসন্ধান কমিটি করেছেন। আর এই কমিটি নিজেদের প্রজ্ঞা দিয়ে বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ করা নামগুলো প্রকাশ করা হলে জনগণ আস্থা পাবে। সবাই দেখতে পাবে, কাদের নেওয়া হলো। তাতে এই প্রক্রিয়া আরও বেশি স্বচ্ছ হবে।
সবকিছু শুভ পরিণতির দিকে যাবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. সাখাওয়াত বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নিজেও একজন বিদগ্ধ রাজনীতিবিদ। তিনি অনেক নির্বাচন করেছেন এবং দেখেছেন। সুতরাং তাঁর কাছ থেকে আমরা আস্থার পরিবেশ পাব বলে বিশ্বাস করি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুসন্ধান কমিটির ছয় সদস্য সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে বৈঠকে বসেন। এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন গঠনে নাম গ্রহণ করেন কমিটির সদস্যরা। তাঁরা দেশের ১৬ বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। গতকালের বৈঠকে ১৬ নাগরিকের প্রস্তাব ও মতামত নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি সূত্র জানায়, এসব মতামত আগামী সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকালের বৈঠকে রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া নাম নিয়ে আলোচনা হয়। সোমবার আরেকবার বৈঠকে বসবে অনুসন্ধান কমিটি। ওই দিন শেষ না হলে মঙ্গলবার কমিটির শেষ বৈঠক হতে পারে। উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধান কমিটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবারের আগে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না থাকলেও কমিটির সদস্যরা সম্ভাব্য নামগুলো নিয়ে নিজেরাই যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার  বলেন, ‘স্বচ্ছতাই উত্তম পন্থা। শুধু ১০ জনের নাম নয়, সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ২০ জনের নামও প্রকাশ করা উচিত। এটা স্বচ্ছতার অংশ। আমি মনে করি, এটার মাধ্যমে আস্থার সংকট দূর হবে।’
১০ জনের নাম ঠিক করতে বৈঠক
গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুসন্ধান কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত তালিকা থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে আহরিত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এটি আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে কমিটি মনে করে। একই সঙ্গে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যে সমস্ত মতামত কমিটিকে দিয়েছেন, তাঁদের মতামতগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এগুলোর একটি সংক্ষিপ্তসার তৈরি করা হয়। চূড়ান্ত হওয়ার পর এটি আপনারাও পেতে পারেন।’
অনুসন্ধান কমিটির পরবর্তী বৈঠক ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটায় বসবে জানিয়ে আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘আশা করা যায়, নির্ধারিত ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁরা সুপারিশ চূড়ান্ত করতে এবং রাষ্ট্রপতি বরাবর জমা দিতে পারবেন।’
সংক্ষিপ্ত তালিকায় আজকে কোনো নতুন নাম যুক্ত হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল ওয়াদুদ বলেন, গতকালের সভায় নতুন কোনো নাম যুক্ত হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নির্দলীয় এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তিদের নাম পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল ওয়াদুদ বলেন, অনেক পর্যালোচনা করে এই তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকা যখন আরও সংক্ষিপ্ত হবে, তখন তা চূড়ান্ত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যে মতামত দিয়েছেন, সংবিধানে যা বলা আছে—সবকিছুর আলোকে কমিটি সর্বোত্তম ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল ওয়াদুদ বলেন, সততা, যোগ্যতা, দলনিরপেক্ষতা ও কার্যক্ষমতার বিষয়টি দেখে অনুসন্ধান কমিটি নাম চূড়ান্ত করছে। এখন পর্যন্ত ২০ জনের তালিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরপরও নতুন নাম যুক্ত হবে কি না, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
রাষ্ট্রপতিকে অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ করা ১০ জনের তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াদুদ বলেন, ‘এটা কমিটি নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে। কমিটি সিদ্ধান্ত নিলে তা প্রকাশ করা হবে। এ মুহূর্তে আমি ঠিক বলতে পারছি না।’
সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়া হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল ওয়াদুদ বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগ এখন। তথ্য সংগ্রহের বহুবিধ উপায় রয়েছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, এমন কথা নেই।
আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের অনুসন্ধান কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীণ আখতার। গতকালের সভায় সবাই উপস্থিত ছিলেন।সুত্র ঃ প্র.আ.

Check Also

DSC03465

মূর্তি স্থাপন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র -মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে আদিকাল থেকে চলে আসা বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করা হচ্ছে। এদেশের মানুষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *